মুসলিম রেনেসাঁর কবি কে?
-
ক
ফররুখ আহমেদ
-
খ
কাজী নজরুল ইসলাম
-
গ
জহির রায়হান
-
ঘ
কায়কোবাদ
-
ঙ
মুহাম্মদ আব্দুল হাই
উত্তর: A. ফররুখ আহমেদ
বাংলা সাহিত্যে ফররুখ আহমদকে 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' হিসেবে অভিহিত করা হয়। তার কবিতায় মুসলিম ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং হারানো গৌরব পুনর্জাগরণের চেতনা অত্যন্ত জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি'র মাধ্যমে তিনি পঙ্কিলতায় মগ্ন মুসলিম সমাজকে নতুনভাবে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তার লেখায় ব্যবহৃত রূপক ও মিথ মুসলিম ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। যদিও কাজী নজরুল ইসলামকে বিদ্রোহ ও সাম্যের কবি এবং কায়কোবাদকে মহাকবি বলা হয়, তবে নির্দিষ্টভাবে 'মুসলিম রেনেসাঁ' বা জাগরণের ভাবধারাকে কাব্যিক শিল্পরূপে রূপ দেওয়ার জন্য ফররুখ আহমদই এই বিশেষ উপাধিতে পরিচিত।
ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪)
চল্লিশের দশকে আবির্ভূত শক্তিমান কবিদের অন্যতম ফরুখ আহমদ ছিলেন ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি। তাঁর রচিত কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব-ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগ নৈপুণ্য, বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর রচিত কবিতা বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে।
- ফররুখ আহমদ ১০ জুন, ১৯১৮ [১০ জুলাই, ১৯১৮: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান] সালে মাগুরা জেলার (তৎকালীন যশোর) শ্রীপুর উপজেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রকৃত নাম সৈয়দ ফরুখ আহমদ। দাদী ডাকতেন রমজান নামে। - তাঁকে ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি, ইসলামি রেনেসাঁর কবি বলা হয়।
- তাঁর উপাধি: মুসলিম রেনেসাঁর কবি।
- তিনি 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং ঢাকা বেতারের 'স্টাফ রাইটার' হিসেবে কাজ করেছেন।
- ১৯৩৭ সালে 'বুলবুল' পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা 'রাত্রি' এবং 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় 'পাপজন্ম' কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাংলার পক্ষে এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য, বিবৃতি প্রদান করেন এবং কবিতা রচনা করেন।
- ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্র সংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তিনি এ সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬০), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮০) পান।
- তিনি ১৯ অক্টোবর, ১৯৭৪ সালে ঢাকায় মারা যান।
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহঃ
কাব্যগ্রন্থ:
'সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪): ১৯টি কবিতার সমন্বয়ে এটি কবির প্রথম প্রকাশিত ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। মুসলিম জাগরণের লক্ষ্যে এ কাব্যের কবিতাগুলি লিখিত। সেজন্য কবি বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ ত্যাগ করে গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান-আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা। বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন। ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কাব্যটির মূল সুর। বিখ্যাত উর্দু কবি আল্লামা ইকবালকে তিনি কাব্যটি উৎসর্গ করেন। এ কাব্যটি প্রকাশে অর্থায়ন করেন কবি বেনজির আহমেদ।
'সাত সাগরের মাঝি' ও 'পাঞ্জেরি' এ কাব্যের কবিতা।
'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১): এটি কাব্যনাট্য।
'হাতেমতায়ী' (১৯৬৬): এটি কাহিনিকাব্য, এর জন্য তিনি ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
'মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩): এটি তাঁর সনেট সংকলন। এ সনেটের অন্তর্ভুক্ত কবিতা 'বৃষ্টি'।
'কাফেলা' (১৯৮০): এ কাব্যের কবিতা ‘পদ্মা’
'নতুন কবিতা' (১৯৫০), 'সিরাজাম মুনীরা' (১৯৫২), 'ধোলাই কাব্য' (১৯৬৩), 'হাবেদা মরুর কাহিনী' (১৯৮১), 'সিন্দাবাদ' (১৯৮৩), 'দিলরুবা' (১৯৯৪)।
'হরফের ছড়া' (১৯৬৯): এটি শিশুতোষ বিষয়ক গ্রন্থ। হরফ বা বর্ণ দিয়েই ভাষার শুরু। যারা ভাষা লিখতে ও পড়তে শিখবে হরফ তাদের জন্য। ভাষা যত সহজ, সুরেলা ও বৈচিত্র্যময় হবে, ততই শিশুদের ভাষা শিক্ষার আগ্রহ তৈরি হবে। ফলে অল্পদিনেই তারা বর্ণ শেখার মাধ্যমে ভাষা আয়ত্ত করতে পারবে। সে লক্ষ্যে কবি প্রতিটি হরফ বা বর্ণ দিয়ে ছড়া রচনা করেছেন। এ ছড়াগুলোর সামষ্টিক রূপায়ণ 'হরফের ছড়া'।
'নতুন লেখা' (১৯৬৯), 'চাঁদের আসর' (১৯৭০), 'ছড়ার আসর' (১৯৭০), 'ফুলের জলসা' (১৯৮৫)।
কবিতা:
'উপহার': এ কবিতাটি তিনি নিজের বিয়ে উপলক্ষে লিখেন। এটি পরবর্তীতে 'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
'স্মরণী': এ কবিতাটি তিনি আল্লামা ইকবালের স্মরণে লিখেন।
'পাঞ্জেরী': পাঞ্জেরী ফারসি শব্দ। এর বাংলা অর্থ জাহাজের অগ্রভাগে রক্ষিত পথনির্দেশক আলোকবর্তিকা বা আলোকবর্তিকাধারী ব্যক্তি। এটি তিনি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। ইংরেজ শাসনের যাতাকলে পিষ্ট ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নেতাকে পাঞ্জেরী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 'পাঞ্জেরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
Related Question
View Allমুসলিম রেনেসাঁর কবি বলা হয় কাকে?
-
ক
হুমায়ুন আহমেদ
-
খ
ফররুখ আহমেদ
-
গ
শওকত ওসমান
-
ঘ
সেলিনা হোসেন
'মুহূর্তের কবিতা' লিখেছেন -
-
ক
সিকান্দার আবু জাফর
-
খ
সুফিয়া কামাল
-
গ
আহসান হাবীব
-
ঘ
ফররুখ আহমদ
'মুহূর্তের কবিতা' লিখেছেন -
-
ক
সিকান্দার আবু জাফর
-
খ
সুফিয়া কামাল
-
গ
আহসান হাবীব
-
ঘ
ফররুখ আহমদ
"ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য" কোন কাব্যের উপজীব্য?
-
ক
দিলরুবা- আব্দুল কাদির
-
খ
সাত সাগরের মাঝি- ফররুখ আহমেদ
-
গ
নূরনামা- আব্দুল হাকিম
-
ঘ
জীবন কথা- জসীম উদদীন
'সাত সাগরের মাঝি' কার রচনা?
-
ক
কাজী নজরুল ইসলাম
-
খ
ফররুখ আহমেদ
-
গ
গোলাম মোস্তফা
-
ঘ
সৈয়দ আলী আহসান
১৯৪৪ এর দুর্ভিক্ষের ভিত্তিতে ফররুখ আহমদ রচিত কবিতা কোনটি?
-
ক
পাঞ্জেরি
-
খ
লাশ
-
গ
ডাহুক
-
ঘ
সাত সাগরের মাঝি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন